যুদ্ধের একশো দিন পেরিয়ে গেছে, কিন্তু শান্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরিনে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল। সেই হামলায় কুয়েত বিমানবন্দরে এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছিলেন এবং ৬৩ জন আহত হয়েছিলেন।
শুক্রবার রাতে, কুয়েত ও বাহরিনের আকাশে আবার সাইরেন বেজে উঠেছিল। আমেরিকা দাবি করেছে যে ইরান একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। কিন্তু ওয়াশিংটন দাবি করেছে যে অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। কিছু ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়ে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, কুয়েত ও বাহরিনকে লক্ষ্য করে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। বাকি একটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারেনি।
ইরানের দাবি ছিল বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে আমেরিকা। তাদের বক্তব্য, বাহরিনে নৌবাহিনীর সদর কার্যালয় এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।
এই উত্তেজনার জন্য দায় চাপানো হয়েছে একে অপরের উপর। তেহরানের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ইরানের নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি দ্বীপে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই অভিযানেরই জবাব। ফলে দুই পক্ষের পালটা-পালটি সামরিক পদক্ষেপে গোটা অঞ্চল কার্যত অস্থির হয়ে উঠেছে।
সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। কুয়েতে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে শুক্রবার ২৪টি উড়ান বাতিল করা হয়। অন্তত ১৫টি উড়ান নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছাড়ে।
কিছুদিন আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। একইসঙ্গে দ্রুত একটি শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই উদ্যোগকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে আরাঘচি বলেন, “ট্রাম্প হয়তো স্বপ্নের জগতে বাস করছেন। বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর আরও সচেতন হওয়া উচিত।”
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথ এখনও অনেক দূরে। যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা আপাতত ধোঁয়াশার মধ্যেই রয়ে গেল। আর সেই কারণেই পশ্চিম এশিয়ার আকাশে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Social Plugin