আর্জেন্তিনার ডাগআউটে স্কালোনি নন, আসল সিদ্ধান্তে শেষ কথা মেসিরই! বিশ্বকাপের আগে অকপট স্বীকারোক্তি কোচের

ফুটবল দলে সাধারণত শেষ কথা বলেন প্রধান কোচ। দল নির্বাচন থেকে শুরু করে কৌশল নির্ধারণ— সব সিদ্ধান্তই তাঁর হাত ধরে আসে। কিন্তু আর্জেন্তিনা শিবিরে ছবিটা একটু আলাদা। সেখানে লিওনেল মেসির গুরুত্ব যে কতটা, তা আবারও স্পষ্ট করে দিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি অকপটে বলেন, আর্জেন্তিনা দলের কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি মেসির সঙ্গে আলোচনা করেন। এমনকি ম্যাচ চলাকালীন মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।

স্কালোনির কথায়, “যদি কেউ মনে করে আমি একাই সব সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে সেটা ভুল ধারণা। মেসির সঙ্গে আলোচনা না করে আমি কিছু করি না। ও বিশ্বের সেরা ফুটবলার। মাঠে ওর উপস্থিতি মানেই ম্যাচের গতিপথ যে কোনও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।”

মেসি এবং স্কালোনির সম্পর্কও বেশ পুরনো। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে দু’জন একই দলের সতীর্থ ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। কোচ ও অধিনায়কের এই বোঝাপড়াকেই অনেকেই ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম বড় শক্তি বলে মনে করেন।

এবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্তিনা অন্যতম দাবিদার। তবে প্রস্তুতির মাঝেই কিছু দুশ্চিন্তাও রয়েছে। দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার চোট সমস্যায় ভুগছেন। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তাঁর হাতের আঙুলে চিড় ধরা পড়েছে। যদিও মার্তিনেজ নিজে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ব্যাপারে আশাবাদী।

শুক্রবার ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত নিয়েই অনুশীলনে নেমেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, দুর্দান্ত একটি সেভও করেন। তা দেখে স্বস্তি পেয়েছেন স্কালোনি। কারণ গত বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনার সাফল্যের অন্যতম স্থপতি ছিলেন এই গোলরক্ষক। বিশেষ করে টাইব্রেকারে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স আজও সমর্থকদের মনে গেঁথে আছে। তাই বিশ্বকাপের আগে তাঁকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় পাওয়াই এখন কোচের প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে, মেসিও পুরোপুরি চোটমুক্ত নন। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে গিয়ে তাঁর হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে স্বস্তির খবর, তিনি ইতিমধ্যেই বল পায়ে অনুশীলনে ফিরেছেন এবং ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন।

এদিকে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলের জেরে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও ফিরে পেয়েছে আর্জেন্তিনা। ফ্রান্সের হার এবং স্পেনের ড্রয়ের ফলে এই সুবিধা পেয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু এখানেই রয়েছে এক অদ্ভুত পরিসংখ্যান।

ফিফা র‌্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও বিশ্বকাপে শীর্ষ র‌্যাঙ্কিংধারী দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ১৯৯৪ সালে শীর্ষস্থানীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে নেমেছিল জার্মানি, কিন্তু ট্রফি জেতে ব্রাজিল। এরপর একাধিকবার একই ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গত বিশ্বকাপেও শীর্ষ র‌্যাঙ্কিং নিয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল, অথচ শেষ হাসি হেসেছিল আর্জেন্তিনাই।

তবে এই ধরনের পরিসংখ্যান নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতে রাজি নয় স্কালোনির দল। তাদের লক্ষ্য একটাই— টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়া। ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে পরপর দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই এগোচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।

বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরুর আগে রবিবার হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্তিনা। সেই ম্যাচে মেসি, মার্তিনেজদের শারীরিক অবস্থা এবং দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে সমর্থকদের নজর থাকবে।