ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উপর চাপ বাড়াল মার্কিন হাউস, সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাস

পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়ছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষ আপাতত থেমে থাকলেও উত্তেজনা একেবারে কমেনি। দুই পক্ষের মধ্যেই বিচ্ছিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগ সামনে আসছে, ফলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকার অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব আরও জোরালো হয়েছে। তারই প্রতিফলন দেখা গেল মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে। ইরান থেকে অবিলম্বে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার একটি প্রস্তাব পেশ করা হয় এবং তা ২১৫-২০৮ ভোটে গৃহীত হয়।

ফলাফলটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ হাউসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ট্রাম্পের নিজ দলের চারজন সদস্যও। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এটি একটি রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন প্রস্তাবটি সেনেটে পাঠানো হবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প চাইলে এতে ভেটো দিতে পারেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, শেষ পর্যন্ত তিনি সেই পথেই হাঁটতে পারেন।

প্রস্তাবটি পাস হওয়াকে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে ডেমোক্র্যাট শিবির। সামাজিক মাধ্যম এক্সে হাউসের ডেমোক্র্যাট বিদেশবিষয়ক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে চলা ‘অপ্রয়োজনীয় ও বেআইনি’ যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ইরান নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বহু ক্ষেত্রেই সাংবিধানিক রীতি ও প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের মতে, বুধবারের ভোটাভুটি প্রেসিডেন্টের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

উল্লেখ্য, গত মে মাসের শেষ দিকেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে পাস হয়েছিল। ফলে ইরান প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আপত্তির সুর যে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, তা স্পষ্ট।